বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশনের লক্ষ্য-

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশনের লক্ষ্য-

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন কর্মজীবী-শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিস্টার আন্দোলন, ইহা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ বিনির্মান করা যেখানে স্বাধীনতা, যৌথতা, জোটবদ্বতা এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। ২০১৪ সালের ১ লা মে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু।

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজম ফেডারেশনের লক্ষ্য-

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন কর্মজীবী-শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিস্টার আন্দোলন, ইহা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ বিনির্মান করা যেখানে স্বাধীনতা, যৌথতা, জোটবদ্বতা এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। ২০১৪ সালের ১ লা মে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু।

আমরা বিশ্বাস করি যারা কাজে লোক নিয়োগ করেন আর যারা নিয়োগ পায় তাঁরা কোনভাবেই এক শ্রেনী নয়। এই দুই শ্রেনীর মধ্যে সুদির্ঘ কাল ধরে লড়াই বা দ্বন্দ্ব চলছে, এবং তা ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন দুনিয়ার শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যব্দ হয়ে দুনিয়ার উৎপাদন ব্যবস্থার উপর মালিকানা কায়েম করে মজুরী দাসত্বের অবসান না ঘটাবে।

আমরা এখন সক্রিয় ভাবে শ্রমিক শ্রেনীর লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহন করে তাঁদের কর্ম সময় কমানো, মজুরী বৃদ্বি, এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য কাজ করছি। আমরা শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্বে পরিচালিত সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, ধর্মঘটে ভাঙ্গন, উৎপাদন বৃদ্বির নামে অতিরিক্ত কাজ করানো, মজুরী কেটে নেয়া বা বেকারত্বের বিরুদ্বে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি।

আমরা চাই শ্রমজীবী/সামাজিক লোকেরা স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উৎপাদনে স্ব-ব্যবস্থাপক হয়ে উঠোক, সম্পদের যথাযথ ভাবে বিতরন, সামাজিক সংগঠন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়ে উঠবে। ফলে শ্রমজীবী/সামাজিক মানুষের নিজেদের উদ্যোগে সম্পদ উৎপাদনের জন্য একটি বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

আমরা সকল প্রকার অর্থনৈতিক এবং সামাজিক একচটিয়াবাদের বিরুদ্বে। আমরা কোন প্রকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য কাজ করছি না। বরং আমরা সকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিলয় চাই, যা সমাজকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে থাকে। তাই আমরা সকল সংসদীয় কর্মকান্ডের এবং অন্যান্য আইনী কমিটির বিরুধীতা করি। আমরা বিশ্বাস করি সমাজে ও কর্মক্ষেত্রের ভেতরে ও দ্বন্দ্ব চলবে। সেই দ্বন্দ্ব চলবে স্বাধীনতার জন্য এবং রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্বে।

আমাদের লড়াইয়ের মাধ্যমই হলো শিক্ষা এবং সরাসরি কাজ করা। প্রচলিত লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সমাজ পরিচালনার ও ব্যবস্থাপনার পাঠ নিতে হবে। আমরা কোন ভাবেই সংগঠনের কেন্দ্রীকতা মানিনা । আমরা আমাদের ফেডারেশনকে এমন ভাবে গড়তে চাই যেখানে উদারতা বিদ্যমান থাকবে, নিচু থেকে উঁচু স্তরের দিকে উদ্যোগ গ্রহনে কোন প্রকার পদসোপান বা হাইরার্কির স্থান থাকবে না, স্থানীয় ও আঞ্চলিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল সমূহের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সমন্বয়কারী সকল কমিটির প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে রিকল বা ফেরত নেবার ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিস্ট কার্যক্রম নির্ধারন করবে স্থানীয় কমিটি সমূহ।

আমরা দুনিয়াকে দেখি আমাদের দেশ, মানবজাতিকে দেখি আমাদের পরিবার হিসাবে। আমরা সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মের ও জাতীয় সীমানার বিরুধীতা করি, এবং সকল সরকারে অবাধ সহিংসতা ও সন্ত্রসী কর্মের উন্মোচন করতে চাই।
যে সকল আচার আচরন, বিশ্বাস এবং অনুমান শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য ও সংহতিতে ফাটল ধরায় তা থেকে বিরত থাকতে হবে। সেই সকল আদর্শ বা প্রতিস্টান থেকে দূরে থাকতে হবে যা মানুষের সমতা, অধিকার, ও ন্যায়পরতার পথে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে। এবং নিজেদের জীবন নিজেরা নিয়ন্ত্রন করার পরিবেশকে বাধাগ্রস্থ করে ।