নিরাজবাদিদের তাৎক্ষনিক লক্ষ্য সমূহ

নিরাজবাদিদের তাৎক্ষনিক লক্ষ্য সমূহ

এনার্কিস্টদের ক্ষমতা গ্রহন যে অন্যদের চেয়ে ভালো হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই, খারাপ ও হতে পারে এমন কি কমিউনিস্ট বা ফ্যাসিস্টদের চেয়ে ও ভয়ঙ্কর হতে পারে। বাম পন্থার নীতির উপর ভিত্তিকরে ক্ষমতায় এলে পরিনাম খুব শুভ হবার সম্ভাবনা নেই। আমরা জানি অপ্রস্তুত অবস্থায় ক্ষমতায় আসা একেবারেই বোকামী মূলক কাজ। এটা কার্যকরী ও নয়। নিরাজবাদি বা এনার্কিস্টদের লক্ষ্য “ক্ষমতা দখল” করা নয় ( যারা এই ক্ষমতার কথা বলেন তারা আসলে ব্যাক্তিগত ক্ষমতার কথা বুঝায়ি থাকেন) তবে, এরা ক্ষমতা কাঠামোর ভিত্তিটার বিলয় ঘটাতে চায়। সকল মানুষের জন্য ক্ষমতা কিন্তু কোন বিশেষ ব্যাক্তির জন্য নয়।

নিরাজবাদিদের তাৎক্ষনিক লক্ষ্য সমূহ

এ কে এম শিহাব

একজন “সংস্কারক” আসলে তেমন কিছুই সংস্কার করেন না ( কিছু করে, তাঁরা মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেন)ঃ এই কর্ম সেই ব্যাক্তিই করতে পারেন যিনি সামগ্রীক ব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ন দিকের উন্নতি বিধান করতে পারেন। তা হতে পারে কিছু নির্দিস্ট আইনের বিলোপ সাধন করা বা সংশোধন করা, তবে তা অবশ্যই হতে হবে সংস্কার মূলক কাজ, তাতে সংখ্যা লগু, ও সংখ্যা গুরু সকলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হতে হবে। এই সকল কর্ম সম্পাদন করলেই কেবল সংস্কারক হওয়া যায়। যারা বাম পন্থার লোক তাঁরা এই ধরনের সংস্কার মূলক কাজ করতে বেশ আগ্রহী। এই ধরনের কাজের ফলে কিছু নতুন কারখানা গড়ে উঠতে পারে, আমলাদের আইনগত সমর্থন পাওয়া যেতে পারে, আবার কিছু সংখ্যা লগু মানুষের স্বার্থ ও রক্ষিত হতে পারে, সংখ্যা লগুদের জন্য কাজ করছেন এমন অভিনয় করা থেকে লোকদেরকে বিরত রাখা যাবে। নারীদের জন্য বামদের পরিচালিত কার্যক্রমকে উদাহরন হিসাবে উল্লেখ করা যায় ।

কোন কোন ক্ষেত্রে আইন অপরাধের চেয়ে ও মারত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কোন কোন আইন জনগণের উপকারে আসবে তা অনেক সময় প্রত্যাশা করা মুশকিল হয়ে পড়ে, আইনের ভূল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়, বিচারকদের স্বপ্রনোদিত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়ে যায়। প্রচীন বৃটিশ আইনে অনেক গরীবকে ক্ষুদ্র চুরির জন্য মৃত্যুদন্ড প্রদানের উদাহরন আছে, তা পার্লিয়াম্যান্ট বা জুরিদের দ্বারা বাতিল না করে তা বাস্তবায়নে জোর দেয়া হয়েছে। তাঁদের রায় প্রমান করেছে সকলের উপর দ্রব্যের মূল্য বেশী। নিরাজবাদি বা এনার্কিস্টগন ব্যাক্তি ও দলের উপর নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাঁদের চিন্তাধারা ও আচর আচরনের পরিবর্তন আনতে চায় আইন প্রনয়ন করতে চায় না । যদি মানষের আচার আচরনের পরিবর্তন ঘটে তবে আজ হোক কাল হোক আইনের ও পরিবর্তন হবে। আইন তাদেরকে চালাতে পারবে না । বরং মানুষ ই আইনকে পাল্টে দিবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে এর প্রচুর উদাহরন আছে। এই পরিস্থিতিতে বলা যায় যে, মানুষের মতামত ছাড়া আইন অচল ।

প্রায় চল্লিশ বছর আগে যাদুবিদ্যার আইন চালু ছিল, নিষিদ্ব হবার আগে পর্যন্ত তা প্রয়োগ করা হয়েছে, সরকারী আইনজীবীগণ উপহাসের পাত্র হবার ভয়ে কেবল কয়েকটি মাত্র ধারা অনুসরন করেছেন। যদি ও এই আইনটি রাজনৈতিক কারনেই বাতিল হয়। কিন্তু ব্লাসফেইমী আইনের ক্ষেত্রে ও একেই কথা প্রযোজ্য, মুসলিমগন যখন দাবী করল যিশুকে অপমান করলে যদি লোকজনকে শাস্তি দেয়া যায়, তবে ইসলামকে অপমান করলে কেন তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে না?

১৩৮১ খ্রিস্টাব্দে পরিত্যাক্ত ভবন গুলোতে মানুষকে বসবাসের অনুমতি দেয় তখনকার আইন, সেই সময় তাঁর বিরুধী কোন আইন ছিলো না। কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করত এই ধরনের অনুমতি দেয়া সমীচীন নয়।

প্রত্যেকটি নিপিড়ন নির্যাতনের জন্য প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করা উচিৎ। যখন সরকার তাঁর শক্তি প্রয়োগের জন্য তাঁর ক্ষমতার দম্ভ দেখায়, তখন তাঁরা গণতন্ত্রের কথা ভূলে যায়, এবং রাজনৈতিক দল গুলো সেই ক্ষমতা দেখানোর বিষয়টি বেশী পছন্দ করেন। নিরাজবাদিরা রাজনৈতিক নেতা ও দল সমূহকে প্রতিরোধ করতে চাইলে তাঁরা তাদেরকে ‘ বিশৃংখলাবাদী’, হিসাবে অবহিত করে থাকেন। রাজনীতিবিদ্গন নানা ভাবে নিরাজবাদিদেরকে অনিষ্টকারী হিসাবে চিহ্নিত করে থাকেন । তাঁরা সেই সময়ে এমন বহু কাজ করে থাকেন যার জন্য এনার্কিস্ট বা নিরাজবাদিরা একেবারেই দায়ী নয়।
মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বলবে, "নিরাজবাদ বিদ্রোহ নিয়ে আসতে সক্ষম কিন্তু ক্ষমতা দখল করতে পারে না। তাই তারা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তা কাজে লাগাতে পারে না, বুর্জোয়ারা তার শক্তি পুনর্গঠন করে ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়"।

টুরে বলেন, মার্ক্সবাদি-লেলিনবাদিরা ও এনার্কিস্ট, “ কারন তাঁরা ও নানা ভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চায় ক্ষমতা দখলের জন্য”। এনার্কিস্টরা ও পারে ক্ষমতা দখলে নিতে। কিন্তু মনে রাখতে হবে তাত্ত্বিক ভাবে কেহ মদ মত্ত হতে পারে না । এনার্কিস্টদের ক্ষমতা গ্রহন যে অন্যদের চেয়ে ভালো হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই, খারাপ ও হতে পারে এমন কি কমিউনিস্ট বা ফ্যাসিস্টদের চেয়ে ও ভয়ঙ্কর হতে পারে। বাম পন্থার নীতির উপর ভিত্তিকরে ক্ষমতায় এলে পরিনাম খুব শুভ হবার সম্ভাবনা নেই। আমরা জানি অপ্রস্তুত অবস্থায় ক্ষমতায় আসা একেবারেই বোকামী মূলক কাজ। এটা কার্যকরী ও নয়। নিরাজবাদি বা এনার্কিস্টদের লক্ষ্য “ক্ষমতা দখল” করা নয় ( যারা এই ক্ষমতার কথা বলেন তারা আসলে ব্যাক্তিগত ক্ষমতার কথা বুঝায়ি থাকেন) তবে, এরা ক্ষমতা কাঠামোর ভিত্তিটার বিলয় ঘটাতে চায়। সকল মানুষের জন্য ক্ষমতা কিন্তু কোন বিশেষ ব্যাক্তির জন্য নয়।

যদি এই পরিস্থিতিতে রাস্ট্রকে আঘাত করা হয় তবে তা আহত বাঘের ন্যায় আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, একটি গর্জন করা মুক্ত বাঘকে আঘাত করলে সে হয় নিজে মরবে নয়ত অন্যকে মেরে ফেলবে। তাই এনার্কিস্ট বা নিরাজবাদিগন সংগঠন গড়ে তুলতে চায় বিপ্লবী পরিবর্তন আনয়নের জন্য। নিরাজবাদিদের সংগঠন ব্যাক্তির চিন্তা ধারা ও বিশ্বাসকে পরিবর্তন করতে চায়। সেই ধীর লয়ের কাজ দেখে অনেকেই বলেন সংগঠনে নাকি ‘সত্বঃস্ফুর্ততা’ হারিয়ে যায়।

‘স্বেচ্ছায় কাজ করার ইচ্ছে’- বা এই রকমের তৎপরতা কিছু প্রচার প্রপাগান্ডা চালাতে পারে, কিন্তু সংগঠন হয় না, তা গড়ে তুলতে হবে সমাজের ভেতর থেকে । এনার্কিস্টদের সংগঠনের কাজের পদ্বতীকে অনেক সময় আরাম কেদারায় বসে পরিবর্তনের গীত-সংগীতের মত মনে হতে পারে। কিন্তু এটা ও ভূলে গেলে হবে না যে , সংগঠন যদি সমাজের নানা বিভাগ ও ক্ষেত্র সমূহকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারে বা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা গুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম না হয় তবে সকল প্রকার উদ্যোগ ও চেষ্টা ব্যার্থ হতে বাধ্য।

একটা বিষয় সকলের নিকট ই পরিস্কার যে, নিপীড়ন প্রতিরোধের জন্য একতা ও ঐক্য অতি জরুরী বিষয়, সেই কর্ম অবশ্যই সম্মিলিত ভাবে না হলে পরিনাম হয় ভয়ঙ্কর। এমন কি যখন শ্রমিকদের জন্য কাউন্সিল প্রতিস্টার প্রশ্ন আসে তখনো প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানা প্রকার রাজনৈতিক শক্তি বাহির থেকে নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরী করে নিজেদের মত করে চালাতে চেষ্টা করে স্বীয় স্বার্থ হাসিলের প্রয়াস চালাতে পারে। তাই আমাদেরকে একটি মজবুত সংঠন গড়ে তুলতে হবে যেন কোন প্রকার একনায়কতন্ত্রের সৃজন না হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে যারা বাড়া বাড়ি করবে তাঁদের বিরুদ্বে চরম শাস্তির অনুমোদনের দরকার হতে পারে। এই ধরনের চরম শাস্তির ঘটনা একেবারে বিরল নয়। এই ধরনের চরম শাস্তির বিষয় রাস্ট্রীয় ও জাতীয় ক্ষেত্রে বহু ভাবেই অনুসরন করা হয়। নিরাজবাদিদের চরম শাস্তি দানের বিষয়টি কার্যকরি করা হয় ব্যাক্তির শাসন কায়েমে বাঁধা প্রদান কারীর বিরুদ্বে, আর জাতীয়তাবাদি সন্ত্রাস হয় জনতার বিরুদ্বে এবং রাষ্ট্রের সন্ত্রাস হয় ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য।

Posted By

akmshihab
Apr 17 2018 19:34

Share


  • নিরাজবাদি বা এনার্কিস্টগন ব্যাক্তি ও দলের উপর নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাঁদের চিন্তাধারা ও আচর আচরনের পরিবর্তন আনতে চায় আইন প্রনয়ন করতে চায় না ।

    মানুষের মতামত ও সম্মতি ছাড়া আইন অচল ।

Attached files

Comments

florencecq4
Apr 18 2018 05:44

Latin ladyboys
http://futanari.replyme.pw/?private.brandy
shemalemovie.com xshemale transexal video transxual sex shemaler

florencecq4
Apr 18 2018 05:44

Latin ladyboys
http://futanari.replyme.pw/?private.brandy
shemalemovie.com xshemale transexal video transxual sex shemaler