বাঙালি

১লা মে, ২০১৮ এর ডাকঃ- ‘শাসনকর্তৃত্ব লাভ করা নয়, আমাদের সংগ্রাম শাসন কর্তৃত্ববাদের উচ্ছেদ’ !

ফরাসি সিন্ডিক্যাট বা মজুর ইউনিয়ন থেকে সিন্ডিক্যালিজম কথাটির উৎপত্তি হয়েছে। নিরাজবাদের নয়া ভিত্তি হলো শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কর্ম পন্থা হলো শ্রমিক সংগ্রাম। এই ইউনিয়ন কেবল লড়াইয়ের হাতিয়ার নয়, ইউনিয়ন হবে ভবিষ্যৎ সমাজের কাঠামো। ‘মিউচুয়াল এইডে’র উপর ভিত্তিকরে ইউনিউন গুলি পারস্পার চুক্তি করবে, মাঠে, খনিতে, ক্ষেতে, খামারে তাঁরা উৎপাদনের কাজ পরিচালনা করবেন, ধনতান্ত্রিক রাস্ট্রকে সরিয়ে আনবে শ্রমতান্ত্রিক সমাজ। ‘যারা পরিশ্রম করবে না, সমাজে যাদের কোন কাজ নেই, সমাজে তাঁদের কোন জায়গা নেই, শ্রমতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের জায়গা হবে না।

রুডলফ রকারের অ্যানার্কো-সিন্ডিক্যালিজম বইয়ের ভূমিকায় – নোয়াম চমস্কি

রকার প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিধি বিধানের বিপরীতে নিজের অবস্থান ব্যাক্ত করেছিলেন। তিনি প্রচলিত প্রবণতা সমূহকে সাহসীকতার সাথে ব্যাখ্যা করেছেন, যে সকল প্রবনতা মানুষের আত্মনির্ভরশীল মানসিকতাকে বিনাশ করে দেয়। মাইকেল বাকুনিনের ভাষ্য মতে, ‘ নয়া সমাজের জীবন্ত জীবাণু সৃজন’ করে, মানুষের ভ্রমাত্মক চিন্তার অপসারণ করা দরকার, যারা ভাবেন মানুষের মুক্তির পথ আসে উপর থেকে – তাঁদের নিজস্ব সৃজনশীল কর্ম বা একাগ্রতা থেকে নয়। প্রচলিত প্রভাবশালী চিন্তাধারার আলোকে বোধগম্য করে জনগণের জন্য লক্ষ্য স্থির করা দরকার। এখন বলতেই হবে যে, তথাকতিথ সমাজতান্ত্রিক সমাজ গুলো মনুষ্য বসবাসের উপযোগী নয় বা মার্কসবাদি-লেনিনবাদি আন্দোলন গুলো ও মুক্তির পথ নয়।

সি এন টি কি ?

সি এন টি বার্সেলোনাতে ১৯১০ সালে প্রতিস্টা লাভ করে, এটা সামাজিক গনতান্ত্রিক দল বা ট্রেড ইউনিউনের মত নয়, এটা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্টের মৌলনীতির উপর ভিত্তি করে এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রের চেতনা ও প্রথম আন্তর্কাতিকের আদর্শ অনুসরন করে কাজ করে থাকে।

Bangladesh Anarcho- Syndicalist Federation - (BASF) ‘s Aims, Principles and Statutes

 Bangladesh Anarcho- Syndicalist Federation - (BASF)

We believe the working class and the employing class have nothing in common. Between these two classes a struggle must go on until the workers of the world organise as a class, take possession of the earth and the machinery of production and abolish the wage system.

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন - (বি এ এস এফ) এর লক্ষ্য, নীতিমালা ও সংবিধান

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন - (বি এ এস এফ) এর পতাকা

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন- (বি, এ, এস, এফ) কর্মজীবী-শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিস্টার আন্দোলন, ইহা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ বিনির্মান করা যেখানে স্বাধীনতা, যৌথতা, জোটবদ্বতা এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। ২০১৪ সালের ১ লা মে বি, এ, এস, এফ এর যাত্রা শুরু।

এনার্কিস্ট সমাজে মজুরী প্রথা ও আর্থিক ব্যবস্থার বিলুপ্তি

সরকারের দক্ষতা ও অদক্ষতার উপর ভিত্তি করে জরিপের ফলাফল নির্ধারন করা হয়। বাজেট প্রনয়ন করা হয়। যা প্রায়সই ভুলভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে এতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন খুবই কম হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চাহিদা চূড়ান্ত করনের পর জাতীয় সম্পদের বিভাজন করে জনগণের জন্য পরিকল্পনা ঠিক করা হয়। এই ভাগাভাগীর ক্ষেত্রে শ্রেনী স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত নয়। প্রায়স আওয়াম জনগণ তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।

টেক্সেশন ও অভিবাসন প্রসঙ্গ

ব্রেন্ডেন বিহান মন্তব্য করেছেন, “ ডাবলিনের দরিদ্র পরিবার সমূহের জন্য গিনেস পরিবার ব্যাপক অনুদান দিয়ে অনেক উপকার করেছে”। অথচ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সেই অঞ্চলের দরিদ্র জনগণ গিনেস পরিবারের জন্য যা করেছে সেই তুলনায় তাঁদের অবদান একেবারেই নগণ্য”। টেক্সের ক্ষেত্রে আরো বলা হয় যাদের অর্থ আছে তাঁদের নিকট থেকে নিয়ে যাদের নেই তাদেরকে দেয়া হচ্ছে।

অর্থ সংক্রান্ত মিথ বা কল্প কাহিনী

যুদ্বের কালে, আমরা দেখি রেশনে খাদ্য ও কাপড় দেবার জন্য কুপন চালু করা হয় যা ব্যবহার করে প্রত্যেকে তাঁদের স্ব স্ব পাওনা পেয়ে যান । অর্থ ব্যবস্থা চালু থাকার ফলে কালোবাজারের প্রবনা দেখা দেয়, কিন্তু রেশনিং পদ্বতীর ধারনা আমাদেরকে নয়া পথ দেখায়। রাষ্ট্র কেন্দ্রীক সমাজতন্ত্র –যেখানে অর্থ ছিলো না- এমন ব্যবস্থা চলতে অসুবিধা হয়নি।

রাষ্ট্র ছাড়া চলবে কেমনে ?

সরকারী বিভাগ গুলো এমন যে একটি আরেকটির জন্য কাজ করতে পারে না । রাজাদের যদি সেনাবাহিনী না থাকে তবে সে আপনাকে বিদেশীদের আক্রমন থেকে হেফাজত করতে পারবে না । যদি ধর্ম মন্ত্রনালয় বা চার্চ না থাকে পুলিশ আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে পারবে না । সমাজে এমন কিছু নিয়ম রীতি আছে যা প্রচলিত আইনের চেয়ে উত্তম । কিন্তু আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ গন তা মানতেই রাজি নন। তাঁরা একে অন্যের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে কাজ করে থাকেন।

নয়া সমাজের পথে

প্রায় রাজনৈতিক সংস্কার পন্থীরাই দলীয় দাদাগিরি/দিদিগিরি মন থেকে চায় না, রিপাবলিকানদের লক্ষ্য হলো রাজতন্ত্রের বিলয়, ধর্ম নিরপেক্ষরা চায় চার্চ বিলয় হোক, সমাজতন্ত্রীরা চায় সমাজ থেকে শোষন যন্ত্রের বিনাশ হোক, ফ্যাসিবাদীরা চায় সেনেবাহিনী বিলুপ্ত হোক।