বাঙালি

এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমঃ তত্ত্ব ও প্রয়োগ

এনার্কিজম বা নিরাজবাদ মানব সমস্যার সমাধানের জন্য কোন চিরন্তন বানী নয়, এটা আবার কোন কল্পনা প্রসূত মতবাদ ও নয়, এই মতবাদ যেকোন চিরন্তন বানী বা মতবাদ বিরুধী। এটা কোন চিরন্তন সত্যে বিশ্বাসী নয়, বা মানবজাতির চূড়ান্ত মতবাদ হিসাবে ও দাবী করে না ।

গ্রন্থঃ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমঃ তত্ত্ব ও প্রয়োগ

কার্ল মার্ক্স একটি নয়া ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন, তিনি প্রলেতারিয়েতদের একনাকত্বের ধারানার প্রবর্তনের প্রস্তাব দেন, তিনি বলেছিলেন, একটি শ্রেনীহীন সমাজ বিনির্মানের জন্য এটা হবে একটি অন্তর্বতীকালিন ব্যবস্থা। তিনি আরো প্রস্তাব করেন, শ্রেনীর দ্বন্দ্ব, শ্রেনী স্বার্থ যখন থাকবে না তখন রাষ্ট্র আপনা আপনিই বিলয় হয়ে যাবে। এই ধরনের ধারনা সামগ্রীক ভাবে ছিলো ভূলে ভরা, ঐতিহাসিক ভাবে রাষ্ট্রের যে ধর্ম, ধরন বা প্রকৃতি যেখানে সর্বদা বিরাজ করে রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চা।

এনার্কিজম বা নিরাজবাদঃ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, (দ্বিতীয় কিস্তি)

ক্রপতকিন দেখিয়ে দেন যে, প্রকৃতির জগতে যেমন একটি অনিশ্চিত লড়াই সংগ্রাম চলে, বাস্তবের জগতেও সেই সংগ্রামই অব্যাহত আছে, সেখানেও চলছে ঠিকে থাকার এক প্রকারের নির্দয়, নিস্টুর সংগ্রাম। সেই লড়াই ও মরন পন লড়াই, সেখানে ও প্রকৃতিক বিধানের ন্যায় চলছে দূর্বলের উপর সবলের প্রধান্য বজায় রাখার এক নিরন্থর যুদ্ব। সামাজিক বিবর্তন এবং সামাজিক সম্মিলিত সহায়তার মাধ্যমেই মানব সমাজ এখনো ঠিকে আছে।

এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমঃ তত্ত্ব ও প্রয়োগ (প্রথম কিস্তি)

এনার্কিজম বা নিরাজবাদ হলো আমাদের সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ন বুদ্বিবৃত্তিক রাজনৈতিক চিন্তার শ্রুতধারা, যা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে অর্থনৈতিক একচাটিয়াবাদ, রাজনৈতিক এবং সামাজিক নিপিড়ন মূলক প্রতিস্টানের বিলয় ঘটিয়ে দিতে চায়। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ‘মুক্তসমিতির ফেডারেশনের’ মাধ্যমে সকল প্রকার উৎপাদন পদ্বতি পরিচালনা করবে, যার লক্ষ্যই হবে সমাজের প্রতিটি সদস্যের চাহিদা মেটানো, তা কোন ভাবেই প্রচলিত সমাজের স্বল্প সংখ্যক মানুষের সুবিধা ভোগ ও নিয়ন্ত্রন চলতে দিবে না।

রুডলফ রকারের অ্যানার্কো-সিন্ডিক্যালিজম বইয়ের ভূমিকায় – নিকুলাস ওয়াল্টার

রকের লিখিত বই গুলোর মধ্যে এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজম বইটি পাঠক মহলে সব চেয়ে বেশী সমাদৃত হয়েছে। এই বইটি যে পটভূমিতে রচিত হয়েছিলো তা হলো স্পেনের গৃহ যুদ্ব, যা ১৯৩৬ সালে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের উন্মেষ ঘটায় এবং রাজনৈতিক মঞ্চে প্রথম বারের মত প্রথম বিশ্বযুদ্ব ও রাশিয়ার বিপ্লবের পর এটাই ছিলো মানুষের সামনে এক মাত্র আলোক বর্তিকা। ১৯৩৬ সালে ফ্রেডারিক ওয়ারবার্গ সেই সময়ে প্রকাশনার ব্যবসায়ে মার্টিন সিকার কে নিয়ে নয়া কোম্পানী গঠন করেন যার নামকরন করা হয় সিকার এন্ড ওয়ারবার্গ, এটা ছিলো তখন লন্ডনের একটি উল্লেখ যোগ্য প্রকাশনা প্রতিস্টান ।

১লা মে, ২০১৮ এর ডাকঃ- ‘শাসনকর্তৃত্ব লাভ করা নয়, আমাদের সংগ্রাম শাসন কর্তৃত্ববাদের উচ্ছেদ’ !

ফরাসি সিন্ডিক্যাট বা মজুর ইউনিয়ন থেকে সিন্ডিক্যালিজম কথাটির উৎপত্তি হয়েছে। নিরাজবাদের নয়া ভিত্তি হলো শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কর্ম পন্থা হলো শ্রমিক সংগ্রাম। এই ইউনিয়ন কেবল লড়াইয়ের হাতিয়ার নয়, ইউনিয়ন হবে ভবিষ্যৎ সমাজের কাঠামো। ‘মিউচুয়াল এইডে’র উপর ভিত্তিকরে ইউনিউন গুলি পারস্পার চুক্তি করবে, মাঠে, খনিতে, ক্ষেতে, খামারে তাঁরা উৎপাদনের কাজ পরিচালনা করবেন, ধনতান্ত্রিক রাস্ট্রকে সরিয়ে আনবে শ্রমতান্ত্রিক সমাজ। ‘যারা পরিশ্রম করবে না, সমাজে যাদের কোন কাজ নেই, সমাজে তাঁদের কোন জায়গা নেই, শ্রমতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের জায়গা হবে না।

রুডলফ রকারের অ্যানার্কো-সিন্ডিক্যালিজম বইয়ের ভূমিকায় – নোয়াম চমস্কি

রকার প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিধি বিধানের বিপরীতে নিজের অবস্থান ব্যাক্ত করেছিলেন। তিনি প্রচলিত প্রবণতা সমূহকে সাহসীকতার সাথে ব্যাখ্যা করেছেন, যে সকল প্রবনতা মানুষের আত্মনির্ভরশীল মানসিকতাকে বিনাশ করে দেয়। মাইকেল বাকুনিনের ভাষ্য মতে, ‘ নয়া সমাজের জীবন্ত জীবাণু সৃজন’ করে, মানুষের ভ্রমাত্মক চিন্তার অপসারণ করা দরকার, যারা ভাবেন মানুষের মুক্তির পথ আসে উপর থেকে – তাঁদের নিজস্ব সৃজনশীল কর্ম বা একাগ্রতা থেকে নয়। প্রচলিত প্রভাবশালী চিন্তাধারার আলোকে বোধগম্য করে জনগণের জন্য লক্ষ্য স্থির করা দরকার। এখন বলতেই হবে যে, তথাকতিথ সমাজতান্ত্রিক সমাজ গুলো মনুষ্য বসবাসের উপযোগী নয় বা মার্কসবাদি-লেনিনবাদি আন্দোলন গুলো ও মুক্তির পথ নয়।

সি এন টি কি ?

সি এন টি বার্সেলোনাতে ১৯১০ সালে প্রতিস্টা লাভ করে, এটা সামাজিক গনতান্ত্রিক দল বা ট্রেড ইউনিউনের মত নয়, এটা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্টের মৌলনীতির উপর ভিত্তি করে এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রের চেতনা ও প্রথম আন্তর্কাতিকের আদর্শ অনুসরন করে কাজ করে থাকে।

Bangladesh Anarcho- Syndicalist Federation - (BASF) ‘s Aims, Principles and Statutes

 Bangladesh Anarcho- Syndicalist Federation - (BASF)

We believe the working class and the employing class have nothing in common. Between these two classes a struggle must go on until the workers of the world organise as a class, take possession of the earth and the machinery of production and abolish the wage system.

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন - (বি এ এস এফ) এর লক্ষ্য, নীতিমালা ও সংবিধান

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন - (বি এ এস এফ) এর পতাকা

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিস্ট ফেডারেশন- (বি, এ, এস, এফ) কর্মজীবী-শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিস্টার আন্দোলন, ইহা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ বিনির্মান করা যেখানে স্বাধীনতা, যৌথতা, জোটবদ্বতা এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। ২০১৪ সালের ১ লা মে বি, এ, এস, এফ এর যাত্রা শুরু।