রাষ্ট্র ছাড়া চলবে কেমনে ?

রাষ্ট্র ছাড়া চলবে কেমনে ?

সরকারী বিভাগ গুলো এমন যে একটি আরেকটির জন্য কাজ করতে পারে না । রাজাদের যদি সেনাবাহিনী না থাকে তবে সে আপনাকে বিদেশীদের আক্রমন থেকে হেফাজত করতে পারবে না । যদি ধর্ম মন্ত্রনালয় বা চার্চ না থাকে পুলিশ আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে পারবে না । সমাজে এমন কিছু নিয়ম রীতি আছে যা প্রচলিত আইনের চেয়ে উত্তম । কিন্তু আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ গন তা মানতেই রাজি নন। তাঁরা একে অন্যের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে কাজ করে থাকেন।

রাষ্ট্র ছাড়া চলবে কেমনে ?

এ কে এম শিহাব

সাধারন ভাবে প্রায় সকলেই এক মত যে রাষ্ট্রের কিছু বিভাগ ছাড়াই আমরা চলতে পারিঃ কিন্তু কেহ কেহ জিজ্ঞাসা করেন, আমরা একেবারেই রাস্ট্রের সকল বিভগকে বাদ দিয়ে কি চলতে পারব ? রাষ্ট্রের কিছু বিভাগ অপ্রয়োজনীয়, কিছু আছে অলঙ্করণ, কিছু আছে উচ্চবিলাশী এবং কিছু আছে যাদের সমাজে কিছু না কিছু ভূমিকা আছে, আরো কিছু আছে যা সমাজের কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও দরকারী কাজ করতে পারে।

সরকারী বিভাগ গুলো এমন যে একটি আরেকটির জন্য কাজ করতে পারে না । রাজাদের যদি সেনাবাহিনী না থাকে তবে সে আপনাকে বিদেশীদের আক্রমন থেকে হেফাজত করতে পারবে না । যদি ধর্ম মন্ত্রনালয় বা চার্চ না থাকে পুলিশ আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে পারবে না । সমাজে এমন কিছু নিয়ম রীতি আছে যা প্রচলিত আইনের চেয়ে উত্তম । কিন্তু আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ গন তা মানতেই রাজি নন। তাঁরা একে অন্যের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে কাজ করে থাকেন।

এটা সত্য যে সরকার দরকারী না হলে ও অনেক সামাজিক কাজে নিজেকে তাঁর নানা বিভাগ উপবিভাগ নিয়ে জড়িত হয়ে পরে, অথচ প্রতিটি বিভাগই কোন না কোন ভাবে নিপিড়ন মূলক কাজ করে থাকে । রেলওয়ে সামগ্রীক ভাবে সরকার চালায় না বরং কিছু পুঁজিবাদী ও চালায়। একেই ভাবে শ্রমিক শ্রেনী এর মালিকানায় এলে আগামীতে আরো ভালো চালাবে। আমরা রাষ্ট্রের আওতায় আছি বলেই রাষ্ট্রের দরকার আছে, রাষ্ট্রের বিকল্প নেই – এই ধরনের কথা বলা বোকামী। সেনাবাহিনী কোন কোন সময় সামাজিক কাজে অংশ গ্রহন করে, যেমন- বন্যা, ভূমিকম্পে রিলিফ বিতরন ইত্যাদি কাজে। তাদেরকে আবার শ্রমিক শ্রেনীকে দমনের কাজে ও ব্যবহার করা হয়। যেমন – কোথা ও ধর্মঘট হলে সরকার সেনাবাহিনী প্রেরন করে; তাদেরকে কোন কোন সময় পুলিশ হিসাবে ও কাজে লাগানো হয়। রাষ্ট্র সর্বদা চেস্টায় থাকে কোন ভাবেই যেন সমাজে কোন প্রকার ভাঙ্গন দেখা না দেয়।

তবে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন কাজ করে থাকে- কারো হয়ত একটি কুকুর হারিয়ে গেছে, তা খোঁজে দেবার জন্য থানায় খবর দেয়, পুলিশ ও সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করে থাকেন। পুলিশ না থাকলে কি আমরা কুকুরটি খোঁজে বেড় করতে পারতাম না ? অথচ আমাদের একটি চমৎকার ক্লাব থাকলে সামাজিক অস্থিরতা নিবারন সহ সেই প্রবীন ভদ্রমহিলার কুকুর হারানো বন্দ্ব করে দিতে পারতাম। ইন্স্যুরেন্সের নিকট দাবী আদায়ের জন্য যারা গাড়ি চুরির খবর নিয়ে থানায় যায় রিপোর্ট করার জন্য- এর মানে এই নয় যে পুলিশ এই ক্ষেত্রে খুবই দরকারী বাহিনী। এই কর্ম অন্যরা ও করতে পারতেন।

আসল কথা হল, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী গুলো দেখতে চায় তাঁরা ভোক্তাদের দাবী পুরনের জন্য যে অর্থ প্রদান করবে তা যেন কোন প্রকার প্রতারনার শিকার না হয়। দুর্ভাগ্যবশত, পুলিশ বাহিনী সামাজিক সুরক্ষার কাজের পরিবর্ততে অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজে শক্তি খরচ করে থাকে । জনগণ ইতিমধ্যেই সামাজিক সংগঠন ও সামাজিক নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তাঁরা কিছু সন্ত্রাসী বন্য বালকের দৌরাত্বের শিকার হয়ে পড়েছে। সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কারনে পুলিশ বাহিনী তৎপর হলে ও সত্যিকার ভাবে তাঁরা সামাজিক নিয়ন্ত্রনে অক্ষম । এক ধরনের কুসংস্কারপূর্ন ধারনা প্রচলিত আছে যে, যদি চার্চের সামাজিক নিয়ন্ত্রন না থাকে তবে সামাজিক দুর্যোগ বা বিপদজনক বিশৃংখনা সৃষ্টি হবে । কেহ বিবাহ করতে পারবে না, মৃতের সৎকার হবে না, সম্পতির বন্টন হবে না, ভালো ভাবে ব্যবসা করা যাবেনা, শিক্ষিত হওয়া যাবে না বা সুস্থ্য থাকা যাবে না ইত্যাদি । পুরো রাষ্ট্র হয়ে পড়বে অধার্মিক। নরক হবে সকলের ঠিকানা। এই বিশ্বাস গুলো এক সময় অকার্যকর ছিলো না তা ছিলো অত্যন্ত গভীর, মানুষের ধ্যানে জ্ঞানে ছিলো চার্চ। যদি দেশে বিশ্বাসীদের ইচ্ছে মত কাজ না হয় তবে, হাসপাতাল, স্কুল, বৈধ সন্তান জন্ম দান বন্দ্ব হয়ে যাবে কেন না সেই সকল প্রতিস্টান ও আচার সমূহ চার্চ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত হত। মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী ও অনুসরন কারী করে গড়ে না তুললে পুরো সমাজ ব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের ভাবনায় ছিলো ধর্ম বা বিশ্বাস ছিলো ঐশি বানীই মানবের ভাবাবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম। এই ধরনের চিন্তা মন মানসিকতা দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্মের মানুষের মাঝেই কম বেশী বিদ্যমান আছে।

আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী জ্ঞান অর্জন করেছি। কিন্তু একটি কুসংস্কার তিরোহিত হলে ও অন্য আরেকটি কুসংস্কার আমাদের মাথায় ঝেকে বসেছে। চার্চের বিশ্বাস এখন রাষ্ট্রে নামে আমাদের মন ও মননকে গ্রাস করে আছে । আমরা ভাবি রাষ্ট্র না থাকলে আমাদের শিক্ষা, হাসপাতাল কে স্থাপন ও পরিচালনা করবে। ব্যবসা বানিজ্যের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে? সকল সময়ের জন্য যে সত্যটির কথা আমরা বলছি তা হলো জনগণ। রাষ্ট্র বা চার্চ নয়। আমরা সম্মিলিত ভাবে সকল কিছুই করতে সক্ষম। আমরা যদি কিছু না করি অন্য কেউ কিছু ই করতে পারবে না । এমন কি এখনো আমরাই সব কিছু করছি- তাঁরা নয়। বরং একটি প্রহেলিকার মাধ্যমে নিজেদের নামে কৃতিত্ব নিয়ে যাচ্ছে আর সুবিধা ভোগ করছে । আমরা কেবল সামাজিক কাঠামোটা পাল্টে দিয়ে মানুষকে সত্যিকার মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে চাই। মানুষ নিজেদের কৃত কাজের ফল নিজেরা ভোগ করতে পারবেন। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে নানা সামাজিক স্তরে অপমান ও বঞ্চনার শিকার হতে হবে না। এনার্কিজমের পথ ই আসলে মানুষের মুক্তির শেষ পথ। মানব মুক্তির আবাস স্থল হল- রাষ্ট্র নয় জনগণের সমিতি সমূহের ফেডারেশন।

Posted By

akmshihab
Apr 20 2018 14:13

Share


  • আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী জ্ঞান অর্জন করেছি। কিন্তু একটি কুসংস্কার তিরোহিত হলে ও অন্য আরেকটি কুসংস্কার আমাদের মাথায় ঝেকে বসেছে। চার্চের বিশ্বাস এখন রাষ্ট্রে নামে আমাদের মন ও মননকে গ্রাস করে আছে ।

    মানব মুক্তির আবাস স্থল হল- রাষ্ট্র নয় জনগণের সমিতি সমূহের ফেডারেশন।

Attached files