বাঙালি

এনার্কিস্ট সমাজে মজুরী প্রথা ও আর্থিক ব্যবস্থার বিলুপ্তি

সরকারের দক্ষতা ও অদক্ষতার উপর ভিত্তি করে জরিপের ফলাফল নির্ধারন করা হয়। বাজেট প্রনয়ন করা হয়। যা প্রায়সই ভুলভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে এতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন খুবই কম হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চাহিদা চূড়ান্ত করনের পর জাতীয় সম্পদের বিভাজন করে জনগণের জন্য পরিকল্পনা ঠিক করা হয়। এই ভাগাভাগীর ক্ষেত্রে শ্রেনী স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত নয়। প্রায়স আওয়াম জনগণ তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।

টেক্সেশন ও অভিবাসন প্রসঙ্গ

ব্রেন্ডেন বিহান মন্তব্য করেছেন, “ ডাবলিনের দরিদ্র পরিবার সমূহের জন্য গিনেস পরিবার ব্যাপক অনুদান দিয়ে অনেক উপকার করেছে”। অথচ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সেই অঞ্চলের দরিদ্র জনগণ গিনেস পরিবারের জন্য যা করেছে সেই তুলনায় তাঁদের অবদান একেবারেই নগণ্য”। টেক্সের ক্ষেত্রে আরো বলা হয় যাদের অর্থ আছে তাঁদের নিকট থেকে নিয়ে যাদের নেই তাদেরকে দেয়া হচ্ছে।

অর্থ সংক্রান্ত মিথ বা কল্প কাহিনী

যুদ্বের কালে, আমরা দেখি রেশনে খাদ্য ও কাপড় দেবার জন্য কুপন চালু করা হয় যা ব্যবহার করে প্রত্যেকে তাঁদের স্ব স্ব পাওনা পেয়ে যান । অর্থ ব্যবস্থা চালু থাকার ফলে কালোবাজারের প্রবনা দেখা দেয়, কিন্তু রেশনিং পদ্বতীর ধারনা আমাদেরকে নয়া পথ দেখায়। রাষ্ট্র কেন্দ্রীক সমাজতন্ত্র –যেখানে অর্থ ছিলো না- এমন ব্যবস্থা চলতে অসুবিধা হয়নি।

রাষ্ট্র ছাড়া চলবে কেমনে ?

সরকারী বিভাগ গুলো এমন যে একটি আরেকটির জন্য কাজ করতে পারে না । রাজাদের যদি সেনাবাহিনী না থাকে তবে সে আপনাকে বিদেশীদের আক্রমন থেকে হেফাজত করতে পারবে না । যদি ধর্ম মন্ত্রনালয় বা চার্চ না থাকে পুলিশ আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে পারবে না । সমাজে এমন কিছু নিয়ম রীতি আছে যা প্রচলিত আইনের চেয়ে উত্তম । কিন্তু আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ গন তা মানতেই রাজি নন। তাঁরা একে অন্যের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে কাজ করে থাকেন।

নয়া সমাজের পথে

প্রায় রাজনৈতিক সংস্কার পন্থীরাই দলীয় দাদাগিরি/দিদিগিরি মন থেকে চায় না, রিপাবলিকানদের লক্ষ্য হলো রাজতন্ত্রের বিলয়, ধর্ম নিরপেক্ষরা চায় চার্চ বিলয় হোক, সমাজতন্ত্রীরা চায় সমাজ থেকে শোষন যন্ত্রের বিনাশ হোক, ফ্যাসিবাদীরা চায় সেনেবাহিনী বিলুপ্ত হোক।

বিপ্লব আসিবে কেমনে ?

ইহা একটি বহুল জিজ্ঞাসিত, আলোচিত বিষয়। বিপ্লব হবে কেমন করে ? এক কথায় উত্তর হলো, ‘ইহা আমরা কেহই আগে বলিত পারিব না’। এর উত্তর আমাদের জানা নেই । যখন বিপ্লব নিজের পরিস্থিতি সৃজন করবে – ১৯৩৬ এবং ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সে যেমন কারখানা দখল করেছিলো বিপ্লবী শ্রমিক শ্রেনীর লোকেরা। এমন ঘটনা ঘটেছিলো স্পেনে ও ১৯৩৬ সালে। তখন ফ্যাসিবাদের ও উত্থান হয়।

শ্রমিকদের সুরক্ষা

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ তাঁদের বিপ্লবের সুরক্ষার জন্য গড়ে তুলে লাল ফৌজ। তাঁরা পার্টির নিয়ন্ত্রনে পুরাতন সৈনিকদের নিয়েই লাল পতাকা হাতে দিয়ে ‘লাল’ ফৌজ গড়ে তুলেন। আমরা সকলেই দেখেছি এই ফৌজ কেমন করে জনগণের উপর নিপিড়ন নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিলো।

নিরাজবাদিদের তাৎক্ষনিক লক্ষ্য সমূহ

এনার্কিস্টদের ক্ষমতা গ্রহন যে অন্যদের চেয়ে ভালো হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই, খারাপ ও হতে পারে এমন কি কমিউনিস্ট বা ফ্যাসিস্টদের চেয়ে ও ভয়ঙ্কর হতে পারে। বাম পন্থার নীতির উপর ভিত্তিকরে ক্ষমতায় এলে পরিনাম খুব শুভ হবার সম্ভাবনা নেই। আমরা জানি অপ্রস্তুত অবস্থায় ক্ষমতায় আসা একেবারেই বোকামী মূলক কাজ। এটা কার্যকরী ও নয়। নিরাজবাদি বা এনার্কিস্টদের লক্ষ্য “ক্ষমতা দখল” করা নয় ( যারা এই ক্ষমতার কথা বলেন তারা আসলে ব্যাক্তিগত ক্ষমতার কথা বুঝায়ি থাকেন) তবে, এরা ক্ষমতা কাঠামোর ভিত্তিটার বিলয় ঘটাতে চায়। সকল মানুষের জন্য ক্ষমতা কিন্তু কোন বিশেষ ব্যাক্তির জন্য নয়।

অহিংসতা

অহিংসতার বানী প্রচারে অগ্রনী হলো এলিট বা অভিজাত শ্রেনীর লোকেরা, এরা গান্দ্বিজির সত্যগ্রাহীর নামে লোকদেরকে কখন ও শক্তি প্রয়োগ করে, নয়ত নীতি কথা শুনিয়ে উপযুক্ত কাজ থেকে বিরত রাখে। সাধারনত দেখা যায়, কট্টর শান্তিপন্থী লোকেরা কোন সত্যিকার বিপ্লবী আন্দোলনকে ও অস্বীকার করে পিছিয়ে যায়। কোন সাম্রাজ্যবাদি আক্রমন বা স্বৈরাচারী সরকারের অপকর্মকে ও শান্তির নামে সমর্থন দিয়ে ফতোয়া প্রচার করতে থাকে।

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজম ফেডারেশনের লক্ষ্য-

বাংলাদেশ এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজম ফেডারেশন কর্মজীবী-শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিস্টার আন্দোলন, ইহা এনার্কো-সিন্ডিক্যালিজমের আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ বিনির্মান করা যেখানে স্বাধীনতা, যৌথতা, জোটবদ্বতা এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। ২০১৪ সালের ১ লা মে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু।